
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সার ডিলারশিপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জেরে এক ছাত্রদল নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাসনাবাদ ইউনিয়ন শাখার নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্ট সার ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ব্যাপারীহাট বাজারে এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হাসনাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল আজাদ সার ডিলারশিপ পাওয়ায় এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করেন একই ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম। এর জেরে আব্দুল আজাদের ছোট ভাই এবং হাসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ মুঠোফোনে খোরশেদ আলমকে হত্যার হুমকি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাস্তায় পেলে তাঁকে জবাই করার হুমকি দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রশিদ আগে হাসনাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় মেসার্স কামাল ট্রেডার্সের সার ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাসনাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক লাভলু মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলমসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক নেতাকর্মী।
সমাবেশে হাসনাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লাভলু মিয়া বলেন, “আব্দুর রশিদ ৫ আগস্টের পর আওয়ামী যুবলীগ থেকে বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং তাঁর সংশ্লিষ্ট সার ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনে যাব।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


