
ওয়ালী রহমান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কাশবনের ভেতর হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক আরজান মিয়া ওরফে আবদুল্লা (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পর লুট হওয়া একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের সরকারি কলেজের সামনে একটি কাশবন থেকে আরজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের দুই হাত, দুই পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল এবং হাঁটুর ওপর রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন আরজান। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আ. আউয়াল বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১ অক্টোবর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সামসু মিয়ার কাছ থেকে নিহত আরজানের লুণ্ঠিত ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ পৌর মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে সিহাব হোসেন (৩২) ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, হত্যার পর লুট করা মোবাইল ফোনটি হবিগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোবাইলটি লুণ্ঠিত জেনেও কম দামে কিনে পরে অধিক মূল্যে বিক্রি করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ-বল্লা বাজার এলাকা থেকে মো. তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) এবং রিমন ওরফে মাহফুজুর রহমান (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে নাসিরনগরে নিয়ে আসেন। পরে তাকে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করে মরদেহ কাশবনের ভেতরে ফেলে রেখে যান বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটিই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রধান সূত্র হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে শনাক্ত তুহিন ও রিমন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারের চেষ্টা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


