
আবু সুফিয়ান বাবু,
দেশের বিভিন্ন জেলায় তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব, কার্যক্রম পরিচালনা ও ইজতেমা আয়োজন নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের মধ্যেই এসব কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।
তাবলিগ জামাতের অনুসারীদের মধ্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাদপন্থী এবং আলেম-ওলামাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলে আসছে। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাও দুই পক্ষের বিরোধকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
আলেম-ওলামাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইজতেমার পক্ষের অভিযোগ, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় সাদপন্থীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা জরুরি।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলায় সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগকে ঘিরে আপত্তি জানিয়েছে আলেম-ওলামাদের তত্ত্বাবধানে থাকা পক্ষ। তাদের মতে, অতীতের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জানুয়ারিতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার ঘোষণা
অন্যদিকে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে আলেম-ওলামাদের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দুই পর্বে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রথম পর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৭।
তবে ইজতেমা আয়োজন নিয়ে চলমান মতবিরোধের মধ্যে এসব কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা, পারস্পরিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


