ajkerprithibi
, , ,
  1. অপরাধ
  2. অভিযান
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি
  8. ক্যাম্পাস
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চাকরি
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. দেশজুড়ে
  15. ধর্ম

সিজারের পর মীমের মৃত্যু, নাগেশ্বরীতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

Ajker prithibi
অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

শাওন আহম্মেদ লেবু

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মীম (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, প্রসূতির স্বাভাবিক ডেলিভারি না করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সিজার করাতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া গর্ভাশয়ে ময়লা ও গর্ভফুলের অংশ রেখে প্রথম স্তরে সেলাই ফাঁকা রাখায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মুমূর্ষুবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এ্যাপোলো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রংপুরের ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু হয়। এর আগে প্রসূতিকে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ত্রোপচার করার পর অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে ভোররাতে (১৪ অক্টোবর) রোগীকে রংপুরে রেফার্ট করে এ্যাপোলো কতৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বামী আল মামুন বাবু।

ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা, অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন এবং তাঁদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।

প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই রাত আড়াইটার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মৃতের পরিবারের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল। এ সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি বলে মনে করি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
গোলাম রসুল রাজা বলেন, আজ (১৬ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সুজন সাহা বলেন, অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিৎ এবং প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে ক্লিনিকের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করা জরুরি বলেও জানান তিনি।

আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Website Design & Development by BD IT HOST ↗