
মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (১১ই অক্টোবর) সকাল ১০:০০ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম শাহরিয়ার।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করছে।”
চুয়াডাঙ্গা একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক ও নানা ধরনের চোরাচালান রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর ও গ্রামাঞ্চলে পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং এবং সামাজিক অপরাধ দমনেও অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খালেদ মাহমুদ।
এছাড়াও সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভা শেষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করা হয়।


