
মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল কেনার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মামুন নামের এক যুবকের ছুরিকাঘাতে মধু (৫৬) নামের এক বয়োবৃদ্ধ ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার (০২রা অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে কার্পাসডাঙ্গার মুচি বটতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মধু (৫৬), পিতা: মৃত সিরাজ আলী, সাং: আরামডাঙ্গা গ্রাম, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন, দামুড়হুদা উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্পাসডাঙ্গার মুচি বটতলায় ফুটপাতে ভ্যানে করে ফল বিক্রি করে আসতেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি: মামুন, পিতা: নেতা বাঙাল, সাং: কার্পাসডাঙ্গা এলাকা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মধু মিয়া প্রতিদিনের মতো কার্পাসডাঙ্গা বাজারের মুচি বটতলা এলাকায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোবাইল কেনার টাকা লেনদেন বা এ সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ফল বিক্রেতা মধুর সাথে স্থানীয় যুবক মামুনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মামুন হঠাৎ করেই একটি ধারালো ছুরি বের করে মধুর শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মধু ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রক্তাক্ত অবস্থায় মধুকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কার্পাসডাঙ্গা বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।


