
শাওন আহম্মেদ লেবু
স্বামী-সন্তানহীন তিন বোন। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধিতায় অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরাও কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছিল তাঁদের। তাঁদের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর এবার পাশে দাঁড়িয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দেবীপুর পণ্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের তিন মেয়ে মন্তনী বেওয়া (৭৯), বোছ বেগম (৭৫) ও তুলি বেগম (৫৫)। তিন বোনের মধ্যে মন্তনী বেওয়ার কোমরের হাড় ভাঙা, বোছ বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তুলি বেগম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘তিন বোনের নেই আপনজন, ভাঙা ঘরে অসহায় জীবন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তাঁদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন বোনের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীজীব কুন্ডু ও সংবাদকর্মী মিজানুর।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিন বোন একে অপরকে অবলম্বন করে জীবন কাটিয়ে আসছেন। তাঁদের নিয়মিত কোনো আয়ের উৎস নেই। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসের পাশাপাশি খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও তাঁদের চরম কষ্ট হয়।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন জানিয়েছিলেন, তিন বোনের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঘরের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এককালীন সহায়তা নয়, তিন বোনের জন্য নিয়মিত খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বসবাসের উপযোগী একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা হোক। এতে জীবনের শেষ সময়ে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি পাবেন অসহায় এই তিন বোন।


