
শাওন আহম্মেদ লেবু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ৮৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নাগেশ্বরী উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে দিনে তিনজন এবং রাতে চারজন করে স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। পূজা চলাকালে মণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে পূজামণ্ডপে ভাঙচুর বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি যোগাযোগ নম্বরসংবলিত ব্যানার বা ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে ইউএনও বলেন, অতীতে কোনো পূজামণ্ডপে ঘটে যাওয়া ভাঙচুরের পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার ভিডিও হিসেবে প্রচার করে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ভিডিও বা তথ্য বিশ্বাস ও প্রচার না করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে তাদের সমস্যাগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরকারি অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্য সচিব মোকলেছুর রহমান। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবীদেরও দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


