
শাকিল আহাম্মেদ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হকের (৪৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত এনামুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী (মাটিয়ারপাড়া) গ্রামের মো. মনছুর আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী বিদ্যালয়টিতে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে এবং সুযোগ বুঝে তাকে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীটিকে ডেকে দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে শিক্ষক তাকে ছেড়ে চলে যান।
পরবর্তীতে সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার সকালে ছাত্রীটি পরিবারের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে বড় গাংনী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যান।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান রেজা ও মোহাম্মদ সেলিম রেজা এবং বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা ও গৌরীহৃদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিনকে সদস্য করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আলাউদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


