
আবু সুফিয়ান বাবু,
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। আটক ব্যক্তিকে নিজের মামা পরিচয় দিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা এবং পরে কম পরিমাণ মাদক দেখিয়ে মামলা করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আবু বেলাল ছিদ্দিক। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আর আটক ব্যক্তি বিপ্লব রহমান (৪৮), তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর চৌধুরী হাট এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা বাজার এলাকায় অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এ সময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়ক থেকে বিপ্লব রহমানকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর ওই ব্যক্তিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে রাতভর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক। তবে পুলিশ তার অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক উপপরিদর্শক জানান, প্রথমে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি আটক ব্যক্তিকে নিজের মামা বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশ রাজি না হলে টাকার বিনিময়ে কম পরিমাণ মাদক দেখিয়ে মামলা করার প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না জানালে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয় বলে তার দাবি।
অভিযানে অংশ নেওয়া বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আটক বিপ্লব রহমান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন বলে তথ্য ছিল। অভিযানের সময় তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে।
পরে সোমবার সকালে বিপ্লব রহমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, যারা এসব কথা বলেছেন, তাদের কাছেই বিষয়টি জানতে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিককে তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিয়ে অফিসে দেখা করতে বলেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।


