
সেলিম রেজা তাজ,
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সফলভাবে নিরাপত্তা দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতা, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্গোৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ৪৯ বিজিবি..
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গতকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
২২২টি পূজামণ্ডপে প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন..
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহরের ২০টি পূজামণ্ডপসহ যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ২২২টি পূজামণ্ডপে প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ও গোপালগঞ্জসহ সাতটি জেলার ৩৭টি উপজেলার সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরে ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পূজামণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা হয়।
গোপালগঞ্জে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন..
যশোর রিজিয়নের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি স্থানীয় জেলা প্রশাসনের অনুরোধে গোপালগঞ্জ জেলায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি— বিজিবি অধিনায়ক..
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যশোর ব্যাটালিয়নসহ যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ আয়োজন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও জানান, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।


