
আবু সুফিয়ান বাবু,
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া একজনের বিয়েকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জন্মসূত্রে নারী হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তি বর্তমানে নিজেকে রাফি ইসলাম নামে পরিচয় দেন। সম্প্রতি এক তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহল ও বিতর্ক দেখা দেয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বাতেনের মোড় গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাফির আগের নাম সুমা আক্তার। তিনি চণ্ডীপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের সন্তান। কিছুদিন ধরে তিনি ছেলেদের পোশাক পরে চলাফেরা শুরু করেন এবং নিজেকে রাফি ইসলাম নামে পরিচয় দিতে থাকেন।
পরিবারের বক্তব্য
রাফির বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, সন্তানের লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি জানেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে পার্বতীপুরের এক তরুণীর সঙ্গে রাফির সম্পর্ক গড়ে ওঠে।বিষয়টি দুই পরিবারে জানাজানি হলে তরুণীর পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে ওই তরুণী বাড়ি ছেড়ে এসে রাফিকে বিয়ে করেন এবং শুক্রবার রাফির বাড়িতে ওঠেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা আলম হক বলেন, তাঁরা এতদিন সুমাকে মেয়ে হিসেবেই জানতেন। তবে কিছুদিন ধরে তাঁর চলাফেরায় পরিবর্তন চোখে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, সত্যিই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই।
সুমাইয়া নামের এক নারীও একই ধরনের সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তাঁর জানামতে রাফি একজন নারী। লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি সত্য হলে তার প্রমাণ দেখানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য
সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহি মুকুট চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তাঁর ইউনিয়নেই ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় বা শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো চিকিৎসাগত তথ্য বা প্রতিবেদন তিনি পাননি। তাই এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।


