
আবু সুফিয়ান বাবু,
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ও প্রধান সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ‘মানিক’ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর গভীর রাতে সীমিত উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়। এমনকি মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় এবং নারীদের খোঁড়া কবরেই তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পোস্টগুলোতে একই সঙ্গে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা ও দাফনে বিপুল মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। লেখকদের দাবি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পিরোজপুরে তাঁর জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা যুদ্ধাপরাধ মামলাকে তাঁর সমর্থকেরা ‘মিথ্যা মামলা’ হিসেবে দাবি করে আসছেন। সেই মামলার বাদী ও সাক্ষীদের একজন হিসেবে মানিকের নাম উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে মানুষের অনুপস্থিতিকে সাঈদীর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
এদিকে, পোস্টটিতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাজা ও দাফনের প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে। লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিহাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ও মৃত্যুর পর তাঁদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা সময়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তাই বিশেষভাবে সামনে এসেছে—ক্ষমতা, প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। জীবদ্দশায় মানুষের আচরণ, অহংকার ও ক্ষমতার ব্যবহার একদিন ইতিহাসের বিচারের মুখোমুখি হতে পারে—এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে।
তবে কারও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিভাজন বা বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবর্তে ঘটনাটি থেকে মানবিকতা, বিনয় এবং ক্ষমতার ক্ষণস্থায়ী চরিত্র সম্পর্কে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। ক্ষমতা ও প্রভাবও চিরস্থায়ী নয়—সময়ের স্রোতে শেষ পর্যন্ত সবাইকেই চলে যেতে হয়।


