
আবু সুফিয়ান বাবু,
ঋতুবৈচিত্র্যের বাংলাদেশে শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে দেখা দিতে শুরু করেছে শীতের পূর্বাভাস। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে রাতের শেষভাগ থেকে ভোর পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও দেখা মিলছে হালকা কুয়াশার। প্রকৃতির এমন পরিবর্তনে শীতকে বরণ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি থাকলেও গভীর রাত ও ভোরের দিকে বইছে হিমেল বাতাস। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির আর ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। ধীরে ধীরে শীতের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় গ্রামীণ জনপদে এর প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে।
শীতকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। ফুটপাত ও বাজারের ছোট-বড় দোকানে শীতের পোশাক কেনার খোঁজ করছেন অনেকেই। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির আয়োজন ঘিরেও তৈরি হচ্ছে আগ্রহ। কোথাও কোথাও পিঠা বিক্রির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
তবে শীত সবার জন্য সমান আনন্দের নয়। সচ্ছল মানুষের কাছে শীতকাল উপভোগের সময় হলেও দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই ঋতু নিয়ে আসে বাড়তি দুর্ভোগ। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ এবং শীতবস্ত্রের অভাবে থাকা পরিবারগুলোর জন্য শীত মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শীতের আগাম উপস্থিতি ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি। রাত ও ভোরের আবহাওয়ায় শীতের আমেজ বাড়তে থাকায় সামনে শীতের দিনগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
হেমন্তের প্রকৃতিতে শিশির, কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসের এই মেলবন্ধন যেন আগাম জানান দিচ্ছে শীতের। তবে শীতের তীব্রতা কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর।


