
শাওন আহম্মেদ লেবু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে আট শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা, দলিল জালিয়াতির আশঙ্কা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আশরাফুল আলম ডলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল হোসেন ও আবুল কাসেম ভবানীপুর মৌজায় সাহেরা বেগমের কাছ থেকে আট শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে ‘সবুজ সংঘ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
জমির ক্রেতা আবুল হোসেনের অভিযোগ, সবুজ সংঘের সদস্য ও তৎকালীন ভিতরবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম ডলার জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেন। নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরির চেষ্টা এবং ওই দলিলে তাঁর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ২৪ অক্টোবর সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন আশরাফুল আলম ডলার। খবর পেয়ে আবুল হোসেন, আবুল কাসেমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধে না জড়িয়ে নির্ধারিত দিনে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে একপর্যায়ে আশরাফুল আলম ডলার, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আবুল হোসেনের ছেলে শাহাদাতের ওপর হামলা চালান। এ সময় ডলারের ছেলের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি ও হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও আশরাফুল আলম ডলারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম, মামলা-বাণিজ্য ও মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে। জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, জমির রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশরাফুল আলম ডলারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধানকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডলারের ছেলে সুমনের হাতে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ওসি এনামুল হক প্রধান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।


