ajkerprithibi
, , ,
  1. অপরাধ
  2. অভিযান
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি
  8. ক্যাম্পাস
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চাকরি
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. দেশজুড়ে
  15. ধর্ম

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: জয়-পরাজয়ের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু ভোট

Ajker prithibi
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আবু সুফিয়ান বাবু,

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত এই ভোটারদের সমর্থন এবার নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ভূল্লী উপজেলার বালিয়া বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততার মধ্যেও চলছে নির্বাচনী আলোচনা। সড়কের পাশে যাত্রী নিয়ে অপেক্ষায় থাকা রিকশাভ্যানচালকদের কথাবার্তায় উঠে আসছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সম্ভাবনা। কেউ বিএনপির জয়ের বিষয়ে আশাবাদী, আবার কেউ জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হরেক চন্দ্রের মতে, নির্বাচনে জয়ী হতে হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটও গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে এই আসনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান ছিল। তবে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। এতে সংখ্যালঘু ভোটারদের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।

পাঁচ প্রার্থীর লড়াই, আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী।

তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। অতীতের নির্বাচনী ফলাফল, দলীয় অবস্থান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সমর্থন এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সংখ্যালঘু ভোটার এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি

আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোটারদের আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দলটির অনুপস্থিতিতে তাঁদের ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।

এ পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। তাঁদের কাছে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

হিন্দু-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে নজর দুই দলের

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৪৯ জন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেন্দ্রটির অধিকাংশ ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিল ১ হাজার ৮৭৬ ভোট। দাঁড়িপাল্লা পেয়েছিল ৫০৯ ভোট।

অন্যদিকে, দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের পশ্চিম অংশ ও বাগপুর এলাকার ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ফাড়াবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ৭৫৯ জন। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। আগের নির্বাচনে এখানে ধানের শীষ পেয়েছিল ২ হাজার ১৯৬ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা পেয়েছিল ৪৭৬ ভোট।

উত্তর ঠাকুরগাঁওয়ের রাংরাই পুকুর শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও রয়েছে দুই দলের ভোটের হিসাব। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩০ জন। আগের নির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ১ হাজার ৩৫৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ২২৯ ভোট।

আগের নির্বাচনের এসব ফল ধরে রাখতে চায় বিএনপি। অন্যদিকে, নিজেদের ভোট বাড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য জামায়াতের। তবে অতীতের ফলাফল এবারও একইভাবে প্রতিফলিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভোটারদের বর্তমান সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সংখ্যালঘু ভোটারদের

নির্বাচন ঘিরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার গুপ্তের মতে, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের মধ্যে একধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। এবারের উপনির্বাচনেও সেই উদ্বেগ রয়েছে।

তাঁর মতে, ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এবং ভোটের পর কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হামলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতির সম্পর্ক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষতি হতে দেবেন না।

অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলার সময় তাঁরা পাশে ছিলেন। নির্বাচিত হলে ওই হামলার ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটের দিন ও পরবর্তী নিরাপত্তায় গুরুত্ব

উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ভোটের দিন ছাড়াও নির্বাচনের পর এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

ফল নির্ধারণে কোন দিকে যাবে ভোট?

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

তবে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে শুধু একটি সম্প্রদায়ের ভোট নয়, সব শ্রেণি-পেশার ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখন অপেক্ষা ভোটের ফলের—বিএনপি তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, নাকি জামায়াত নতুন সমীকরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Website Design & Development by BD IT HOST ↗