আবু সুফিয়ান বাবু
ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি তুলে সেই অর্থে বাস্তবে কী উন্নয়ন হয়েছে—তার বিস্তারিত হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।
সম্প্রতি নির্বাচনী গণসংযোগের সময় পৌর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকলে কোন কোন প্রকল্পে তা ব্যয় হয়েছে এবং সেই প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি কতটুকু?
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কী কাজ হচ্ছে, কী ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে, এ বিষয়ে জনগণ কিছুই জানেন না।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ, কত টাকা ব্যয়, কাজের দায়িত্বে কোন প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী—এসব তথ্য প্রকাশ করা উচিত।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হচ্ছে কি না এবং বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগছে কি না, সে বিষয়ে নাগরিকদের জানার সুযোগ থাকা দরকার।
পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ, সড়কবাতি ও বিভিন্ন নাগরিক অবকাঠামো নিয়ে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য না থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে।
তবে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবির সত্যতা সরকারি নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন, বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উপনির্বাচনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও সরকারি অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতার বিষয়টি প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৌরসভার উন্নয়ন ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন দেলাওয়ার হোসেন।