আবু সুফিয়ান বাবু,
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল আহমেদকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিলেন বুলবুল আহমেদ। এ ছাড়া বগুড়ার শেরপুর থানায় পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এবং নানাভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বদলি হয়ে আসার পরও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে পূর্বে রংপুর রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি মো. আব্দুল মাবুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সে সময় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুধু ক্লোজড নয়, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি
বালিয়াডাঙ্গী থানা থেকে ওসি বুলবুল আহমেদকে প্রত্যাহার করা হলেও অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, অতীতের অভিযোগ, কথিত ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত অর্থ আদায় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার নয়, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ওসি বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।