হাফিজুল ইসলাম লস্কর
বাংলার প্রকৃতি শুধু চোখকে মুগ্ধ করে না, আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করে। নদী, নৌকা, ঋতুবৈচিত্র্য ও গ্রামীণ জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ মিলেই আবহমান বাংলার স্বতন্ত্র পরিচয়। তাই প্রযুক্তির এই যুগে প্রকৃতি ও মানুষের রূপান্তরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তা সাহিত্যকর্মে ধারণ করার জন্য তরুণ লেখকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষকবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ সাহিত্য আসর কক্ষে সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)-এর ১২৮৯তম নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য আসরে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কেমুসাসের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক, কথাসাহিত্যিক-ছড়াকার কামরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং কবি এস এম ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। এতে প্রধান আলোচক ও অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন কেমুসাসের ‘আল ইসলাহ’ সম্পাদক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কবি মাহফুজ জোহা এবং কবি ছয়ফুল আলম পারুল।
আলোচকরা বলেন, একজন প্রকৃত সাহিত্যিকের দায়িত্ব শুধু কল্পনার জগৎ নির্মাণ করা নয়; বরং নিজের সময়, সমাজ ও চারপাশের প্রকৃতিকে সততার সাথে উপস্থাপন করা। দ্রুত নগরায়ণ ও প্রযুক্তির প্রভাবে আজ বাংলার নদী, জলাশয় ও গ্রামের চিরচেনা ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এই শেকড়ের ঐতিহ্যকে সাহিত্যে তুলে আনলে সাহিত্য যেমন কালজয়ী হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও নিজেদের পরিচয় অনুধাবনের সুযোগ পাবে।
কবি কামাল আহমদের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আসরের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরচিত লেখা পাঠে অংশ নেন আতাউর রহমান বঙ্গী, সাজন আহমদ সাজু, লোকমান আহমদ, কামাল আহমদ, কবির আশরাফ, লবিদ হোসেন চৌধুরী, আশরাফ হাছীন জারিফ, মুহাম্মদ আব্দুল ক্বাদীর জিলানী, মো. আব্দুল্লাহ, কবির মাহমুদ, ইমামুল ইসলাম রানা, মুজাহিদুল ইসলাম, রাজিয়া সুলতানা, লিলু মিয়া, মো. ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।
সাহিত্য পরিবেশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাহাউদ্দিন বাহার, কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল এবং আশরাফ হাছীন জারিফ।আসরে পাঠকৃত লেখার গুণগত মান বিচার করে বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মতিক্রমে কবি কবির মাহমুদ-কে সপ্তাহের ‘সেরা লেখক’ হিসেবে মনোনীত করেন।